শিরোনাম

এক দশক ধরে বিআরটিএর সব কাজ পাচ্ছে সিএনএস

 প্রকাশ: ৩১ মে ২০২১, ০৫:১৪ অপরাহ্ন   |   বিআরটিএ





তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাহককে সেবা দেওয়ার জন্য গত এক দশকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যত দরপত্র ডেকেছে, তার প্রায় সবই পেয়েছে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস লিমিটেড বা সিএনএস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ মোটরযানের কর ও ফি আদায়সংক্রান্ত কাজও পেতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রতিটি দরপত্রেই এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যার ফলে সিএনএস ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকে না। ফলে চড়া দামে তাদের সেবা নিতে হচ্ছে যানবাহনের মালিক ও চালকসহ সেবাগ্রহীতাদের।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বেসিস) জানিয়েছে, বিআরটিএর এই কাজগুলো করার মতো অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আছে। তাদের ১ হাজার ৬০০ সদস্যের প্রায় সবাই এ ধরনের কাজ করার জন্য যোগ্য। তবে অযাচিত শর্তের কারণে অনেকে নিরুৎসাহিত হয়।


প্রতিটি দরপত্রেই এমন কিছু শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, যার ফলে সিএনএস ছাড়া অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকে না।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এক দশকে বিআরটিএ থেকে সিএনএসের ব্যবসার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা। এর বাইরে চালকের স্মার্ট কার্ড লাইসেন্স সরবরাহের কাজ আছে ১২০ কোটি টাকার। এই কাজ পাওয়া ভারতীয় কোম্পানি মাদ্রাজ প্রিন্টার্সের বাংলাদেশি অংশীদারও সিএনএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মনির উজ জামান চৌধুরীর ভাগনের প্রতিষ্ঠান লজিক ফোরাম। বর্তমানে সিএনএস বিআরটিএর পাঁচটি কাজ করছে। সিএনএসের এমডি মনির উজ জামান বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশে ঘুরেফিরে থাকেন। বিআরটিএ সূত্র জানায়, সংস্থাটি বাইরে থেকে যেসব সেবা সহায়তা নিচ্ছে, তার দুটি দিচ্ছে সেনাবাহিনীর মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি। এগুলো হচ্ছে যানবাহনের ডিজিটাল নম্বরপ্লেট স্থাপন এবং যানবাহনের মালিকের ডিজিটাল নিবন্ধন কার্ড বা স্মার্ট কার্ড। মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি সরকারি প্রতিষ্ঠান বলে তাদের দরপত্রে অংশ নিতে হয়নি। তবে দরপত্রের মাধ্যমে যত কাজ দেওয়া হয়েছে, এর সবই সিএনএস পেয়েছে।


সিএনএস যেসব কাজ করছে, এর মধ্যে মোটরযানের কর ও ফি আদায় কার্যক্রম সবচেয়ে বড়। ২০১০ সাল থেকে তারা এ কাজ করছে। এর জন্য প্রথম পাঁচ বছরে সিএনএস নিয়েছে ৭৮ কোটি টাকা। ২০১৬ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরে নিয়েছে ১৮৪ কোটি টাকা। আগামী পাঁচ বছরের জন্য ২১৮ কোটি টাকায় তাদের নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকারের ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। এ কাজের জন্য বিআরটিএ দরপত্র (ইওআই) আহ্বান করেছিল গত ১১ ফেব্রুয়ারি।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, প্রথমবার দরপত্রে অভিজ্ঞতার তেমন শর্ত ছিল না। ফলে সহজেই সিএনএস কাজ পেয়ে যায়। পরে প্রতিবারই এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা সিএনএসের অনুকূলে থাকে।

নথিপত্র বলছে, দরপত্রের প্রথম শর্ত হলো, ঠিকাদারের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শর্ত মোটামুটি কাছাকাছি। মূল বক্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশের কমপক্ষে ২০টি জেলার ২৫টি এলাকায় তফসিলি ব্যাংক বা আধা সরকারি ব্যাংক বা অটোনোমাস প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রিয়েল টাইম অনলাইন কম্পিউটারাইজড কর বা রাজস্ব সংগ্রহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সর্বশেষ তিন বছরে ৩৫ কোটি টাকার কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। চতুর্থ শর্ত-মোটরযানের কর ও ফি সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশের কমপক্ষে ৫টি তফসিলি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি থাকতে হবে বা নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করতে হবে।

সিএনএস ২০১০ সালে এই কাজ পাওয়ার পর বিভিন্ন সময় ১৮টি বেসরকারি ব্যাংক ও বিকাশসহ আরও বেশ কিছু আর্থিক সেবাদান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করে রেখেছে। এসব শর্ত সিএনএসকে কাজ দিতেই যুক্ত করা হয়েছে—এই দাবি করে সংক্ষুব্ধ পাঁচটি কোম্পানি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএতে অভিযোগ দেয়। এ কোম্পানিগুলো হচ্ছে আইবিএস-প্রাইম্যাক্স সফটওয়্যার লিমিটেড, লিডস করপোরেশন লিমিটেড, স্মার্ট টেকনোলজি বিডি লিমিটেড, টাইগার আইটি ও কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেড।