শিরোনাম

মাকে নিয়ে আজম খান আবেগঘন স্টাটাস "আজ তোমার চলে যাওয়ার ৬ বছর"

 প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২১, ১১:০১ পূর্বাহ্ন   |   জনসংযোগ


 
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এর গ্রুপ চীফ কমিউনিকেশনস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আজম খান।  আজম খান এর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুরের আগতাড়াইলে। তিনি ব্যাংক ও শোবিজে সকলের কাছে প্রিয় একজন ব্যক্তি। বর্তমানে ঢাকাতে বসবাস করছেন। ওয়েস্ট এন্ড উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকা কলেজ থেকে  মানবিক  বিভাগে  এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তিতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৮৮ সনে ভলান্টারি হেলথ সার্ভিসেস সোসাইটিতে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন সহকারী প্রকাশনা কর্মকর্তা হিসাবে । পরবর্তীতে ১৯৯৩ সনে কারিতাস বাংলাদেশে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। ১৯৯৯ থেকে ২০০১ পর্যন্ত স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেড এর জনসংযোগ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ থেকে ২০০৯  ঢাকা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং এসিস্টান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। ২০০৯ থেকে ২০১৬ তিনি ফার্স্ট  সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের হেড অব মার্কেটিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জনসংযোগ সমিতি এবং পাবলিক রিলেশনস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (প্র‍্যাব) এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও তিনি অভিনয় শিল্পী সংঘের সদস্য।
মায়ের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীতে লিখেছেন মাকে নিয়ে। তার আবেগঘন স্টাটাসটি পাঠকের উদ্দেশ্যে হুবহু তুলে ধরা হলো:




আজ তোমার চলে যাওয়ার ৬ বছর।
২০১৫ সনের ৩ জুলাই দিনটা ছিল শুক্রবার। পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে সেদিন সকালে মাকে দেখতে গিয়েছিলাম  অন্যান্য দিনের মতই। 
কয়েকদিন ধরেই মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। কখনো শরীরটা তার একটু ভাল হচ্ছিল আবার কখনো খারাপ হচ্ছিল। কখনো কখনো অক্সিজেনও দিতে হচ্ছিল। যখন কথা বলতে পারতো তখন হাতটা ধরে রাখতো আমার। আবার কখনো কথা বলতেও ভীষণ  কস্ট হতো তার।
আমরা ভাইবোনরা সবাই তখন সারাদিনই হাসপাতালে থাকি, আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। সেদিনও আমি সকালে গিয়ে তার বেডের পাশে দাড়িয়েছি। কেন যেন সেদিন আমার  মনে হচ্ছিল, তার শরীরটা সেদিন একটু যেন  বেশীই খারাপ। কেমন যেন যন্ত্রণা হচ্ছিল তার। ছটফট করছিল। আমাকে দেখল। হাতও ধরল। একটু কথা বলল। 
আমার সেদিন প্রথম শোবিজে ক্যামেরার সামনে দাড়াবার কথা। শুটিং এর লোকেশন ছিল উত্তরা। ঘন্টা দুয়েক লাগবে শুটিংয়ে, জানিয়েছিলেন পরিচালক আমাকে।  ভেবেছি সব মিলিয়ে ঘন্টা তিনেকের মধ্যে চলে আসতে পারবো।  
আগেও মার শরীর মাঝে মাঝে অনেক খারাপ হয়েছে। আবার ২/১ দিন পরে তা ঠিকও  হয়েছে। ভেবেছি এবারো সব ঠিক হয়ে যাবে।
মার পাশে কিছুক্ষণ বসে সেদিন তারপর উত্তরা চলে এসেছিলাম আর একটু পর পর খোজ নিচ্ছিলাম। হঠাত খবর পেলাম শরীরটা অনেক বেশী খারাপ হয়ে পড়েছে। ডাক্তাররা আইসিইউতে নেয়ার কথা বলেছে। এদিকে ততক্ষনে আমারও শুটিং শেষ। আমিও তখন আবার হাসপাতালের পথে। 
কিন্তু কিছুদূর আসার পরে পথেই পেলাম মর্মান্তিক খবর,  মা আর নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
উত্তরা থেকে ফিরলাম প্রাণহীন মায়ের কাছে হাসপাতালে। নিয়ে গেলাম মোহাম্মদপুর আল মারকাজুলে গোসল করানোর জন্য। তারপর বাসায় নিয়ে আসা হল মাকে। বেশ কিছুক্ষণ ছিলেন নীচতলায় আমার বাসায়। 
এরপর ইফতারের কিছু আগে তার মায়ের কাছে আমার মাকে রেখে আসলাম বনানীতে। 
ভালো থেকো মা।