শিরোনাম

শরীয়তপুরের ডামুড্যায় রাতের আঁধারে রিক্সা চালকের বাড়িতে ত্রাণ নিয়ে হাজির ইউএনও

 প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২১, ০১:২৯ অপরাহ্ন   |   উপজেলা প্রশাসন


শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের উত্তর সিড্যা এলাকায় তিন সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে ছোট্ট একটি ঘরে বসবাস করেন খলিল শিকদার। অসহায় রিক্সা চালক খলিল শিকদার সন্তানের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতে ভাড়ায় রিক্সা চালাতেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। সরকারঘোষিত কঠোর লকডাউন ও শারিরিক সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে আয়ের উৎস। দৈনিক আয়ের উৎস রিক্সার চাকা বন্ধের সঙ্গে থমকে গেছে তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্ত্রী সন্তানের মুখে কী তুলে দেবেন সেই চিন্তায় হয়ে গেছেন একপ্রকার দিশেহারা নেই থাকার ঘরও। এমতো অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে একটি ভিডিও পোস্ট করেন দুই সাংবাদিক। বিষয়টি নজরে আসে ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিকুর রহমান সবুজের।

গত বৃহস্পতিবার ২৯ জুলাই রাত সোয়া ৯ টার দিকে হঠাৎ দরজায় কে যেন ঠক ঠক করেন। খুলে দেখেন কয়েকজন ভদ্রলোক একটা শুকনো খাবারের পোটলা নিয়ে হাজির। পরিচয় জেনেই চোখ যেন কপালে উঠল ওই রিক্সা চালকের। তিনি ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান সবুজ। ওই রিক্সা চালকের দুর্ভোগে পড়ার বিষয়টি জেনে খাবার ও নগদ অর্থ নিয়ে ছুটে এসেছেন তিনি। চোখ ছলছল করা কৃতজ্ঞতাপূর্ণ ওই মুখে যেন কোনো কথাই বের হচ্ছিল না। শুধু মুখ বিড়বিড় করে কী যেন বলছিলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডামুড্যা উপজেলা প্রকৌশলী কাজী রিয়েল, সহায়তা পেয়ে কাঁদো কাঁদো কন্ঠে খলিল শিকদার বলেন, আমি সত্যি কৃতজ্ঞ। আমার এক সন্তান খোঁজ নেয় না আরেক সন্তান প্রতিবন্ধী । বৃদ্ধ বয়সে ভাড়ায় রিকশা চালিয়ে চার সদস্যের ভরনপোষণ দিতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। এমনকি আমার থাকার ঘরও নেই বললেই চলে। বর্তমানে কঠোর বিধিনিষেধে সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার পক্ষে দুই বেলা দুমুঠো খাবার যোগাড় করতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। আজ স্যারের সহায়তা পেয়ে কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তিনি আমাকে ঘর নির্মাণের জন্য ১ বান ঢেউ টিন ও নগদ ১২ হাজার টাকা ও ১ মাসের খাবার দেন । আমি তার এ উপকারের কথা কোন দিন ভুলবো না। 

এবিষয় ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, আমি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও দেখি সেখানে এক অসহায় দম্পত্তির কথা তুলে ধরে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়েছিলো। সেটা দেখে আমি খুবই মর্মহত হয়েছি এবং তাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী, নগদ ১০ হাজার টাকা এবং ব্যক্তিগত ভাবে নগদ ২ হাজার টাকা দেই। তাদের ঘর একেবারে ছোট এক চালা। তাই তাদের ঘর তোলার জন্য ১ বান ঢেউ টিন স্থানীয় ইউপি সদস্য আক্তার হোসেনের কাছে দেই।

তিনি আরও জানান, তাদের যতটুকু খাদ্য দেওয়া হয়েছে তাতে তাদের প্রায় ১ মাস চলবে। তাদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এগ্রিয়ে আসার অনুরোধ করেন।

উপজেলা প্রশাসন এর আরও খবর: